কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ এ ০৩:২৬ PM

জেলার ঐতিহ্য

কন্টেন্ট: পাতা

বরিশাল জেলা

ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি

ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল

নামকরণ ও প্রাচীন ইতিহাস

বরিশালের নামকরণ নিয়ে বেশ কয়েকটি মত প্রচলিতকেউ বলেন বড় বড় শাল গাছের সমাহার থেকেবড়+শাল” = বরিশাল নামের উৎপত্তি, আবার কারও মতে লবণের বড় বড় দানার জন্য ইংরেজ ও পর্তুগিজ বণিকরা এই অঞ্চলকেবরিসল্টবলতেন, যা পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল হয়েছে১৭৯৬ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চল পরিচিত ছিলবাকলা-চন্দ্রদ্বীপনামে, এবং মহারাজা চন্দ্রবর্মা বা চন্দ্রগুপ্তের নাম থেকেইচন্দ্রদ্বীপনামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়১৭৯৭ সালে ব্রিটিশরা এই অঞ্চলকে বাকেরগঞ্জ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, পরে জেলার সদর দপ্তর বাকেরগঞ্জ থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হয়অবশেষে ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য ও বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ জেলা নিয়ে বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়

নদ-নদী, খাল-বিল ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই অঞ্চলকেপ্রাচ্যের ভেনিসউপাধি দিয়েছিলেনপ্রচুর নদ-নদীর কারণে একে বাংলার ভেনিসও বলা হয়ে থাকে

খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব

সাহিত্য ও রাজনীতিতে বরিশালের অবদান অসাধারণকবি জীবনানন্দ দাশ, সুফিয়া কামাল, আহসান হাবীব, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, মধ্যযুগের কবি বিজয় গুপ্ত এবং চারণকবি মুকুন্দ দাসএঁদের সবার শিকড় এই মাটিতেরাজনীতিতেবাংলার বাঘশেরে-বাংলা এ কে ফজলুল হক, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বরের মতো ব্যক্তিত্বরা বরিশালের গর্ব

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য

মুক্তিযুদ্ধে বরিশালের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যবড়াকোটা-হারতা যুদ্ধ, দোয়ারিকা ও জয়শ্রীর যুদ্ধ, গৌরনদীর যুদ্ধ এবং বাকেরগঞ্জে শ্যামপুর যুদ্ধ এখানকার বিখ্যাত সম্মুখযুদ্ধদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে দুইজনের জন্ম এই অঞ্চলে সংশ্লিষ্টবীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (বাবুগঞ্জ উপজেলা) ও বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল (ভোলা জেলা)

স্থাপত্য ও পুরাকীর্তি

এখানকার প্রাচীন মসজিদ ও মঠগুলোর স্থাপত্যে খানজাহান আলীর মসজিদ-রীতির প্রভাব লক্ষণীয়উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে আছে ১৮শ শতাব্দীতে নির্মিত লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, এবং গৌরনদীর আশোকাঠি গ্রামে অবস্থিত জমিদার মোহন লাল সাহার বাড়িযার সামনে ১৮৫০ সালে নির্মিত ১৬০ বছরের পুরনো দুর্গা মন্দির একসময় উপমহাদেশের বৃহত্তম মন্দির ছিলবানারীপাড়ায় রয়েছে শের--বাংলা জাদুঘর, যেখানে এ কে ফজলুল হকের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত আছে

বরিশালের গ্রামাঞ্চলে পীর ও মাওলানাদের প্রভাব বেশ লক্ষণীয়অধিকাংশ গ্রামের মানুষ কোনো না কোনো পীরের ভক্ত এবং মনোবাসনা পূরণে পীরের দরবারে মানত করার প্রথা প্রচলিত

ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সংস্কৃতি

বরিশালের খাবারে নদীমাতৃক সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের প্রতিফলন স্পষ্টপ্রধান আকর্ষণ ইলিশ মাছভুনা, সরষে ইলিশ ও সুগন্ধি ইলিশ পোলাও হিসেবে পরিবেশিত হয়নারকেলের দুধে রান্না চিংড়ি মালাইকারি ও ধুন্ধুল-চিংড়ির ঝোলও এখানকার জনপ্রিয় পদশুঁটকি ভর্তা, বেগুন-পটল ভর্তা, কচুপাতা ভাপা ও চালতার টক ঘরোয়া স্বাদের প্রতিনিধিত্ব করে

মিষ্টান্নের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী পানীয় মালিদা এবং পাকন পিঠা (মুগ ডাল, চালের গুঁড়া ও নারকেলের মিশ্রণে তৈরি) বিয়ে থেকে যেকোনো উৎসবে অপরিহার্যএছাড়া নকশি পিঠা, নারকেলের মোয়া, পুলি, চিতই-ভাপা পিঠা এবং কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হালুয়া-জুস-চাটনি বরিশালের হাটবাজারের নিয়মিত অংশ

অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক ঐতিহ্য

আধুনিক কৃষি পদ্ধতির আগে বরিশাল ছিল বাংলার শস্যভান্ডারএখানকার বালাম চাল সারা ভারতবর্ষে খ্যাত ছিলগাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের এই জেলার নদ-নদী নিয়ত গতি পরিবর্তন করে ভাঙন ও ভূমিগঠনের ধারা অব্যাহত রাখে, আর এই ভাঙা-গড়ার মধ্যেই যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন জাতির মানুষ এসে বসতি গড়ে এই জনপদকে সমৃদ্ধ করেছে

উৎস: বরিশাল জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার তথ্য-ভিত্তিক প্রস্তুতকৃত

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন